দুষ্টু চাচাতো বোন যখন মিষ্টি আদরের বউ-১

  দুষ্টু চাচাতো বোন যখন মিষ্টি আদরের বউ

 লেখক:-Surjo

 পর্ব_১


দেখ নিলিমা পড়ার সময় পড়বি কোনো বারতি কথা বলবি না

তুমি খুব পচা খালি আমাকে বকা দাও।

 এতক্ষন যাদের কথা শুনলেন তারা হলো আমি ও আমার চাচাত বোন/বউ নিলীমা।

ওহ আপনারাতো আমাকে চিনবেন না 


আমি আরমান বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান আর নিলীমা ও বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। নিলীমা আমার ছোট চাচার মেয়ে।

আমরা আর ওরা এক বাসাতে থাকি এবং এক ফ্লাটে মানে জয়েন ফেমেলি

এই দেখেন আপনাদের সাথে কথা বলতে গিয়ে পাগলীটা রাগ করে আছে যাই আগে পাগলীটার রাগ ভাঙাই নাহলে আমারি লস।

এই নিলীমা কোথায় তুমি হুম?

নিলীমাঃ

আমিঃকীহল পাগলীটা কথা বলছে না কেন? যই গিয়ে দেখি আমার বউটা কী করছে

এই নিলীমা কী হয়েছে কান্না করছ কেন?

নিলীমাঃ

 এবার আমি কাছে যেতেই পাগলীটা আমাকে জরিয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিল

আসলে পাগলীটা এমনই আমি একটু ধমক দিলেই কান্না শুরু করে দেয় আমাকে আনেক ভয় পায় এবং ভালবাসে।

 কী আর করার আমিও পাগলীটাকে জরিয়ে ধরলাম আর ওর মাথায় হাত বুলাতে লাগলাম আর ওকে বললাম কান্না করে না

নিলীমাঃ তুমি শুধু শুধু আমাকে বকা দাও

আমিঃ আর বকা দিব না

নিলীমাঃ তুমিতো সবসময় ই বল আবার পরে ঠিকি বকা দাও

আমিঃ ওর কপালে একটা পাপ্পি দিয়ে বললাম তুমি পড়ার সময় ঠিকমত পড়লে আর বকা দিব না

নিলীমাঃ সত্যিহহহ উমমমমা বলে আমাকে একটা পাপ্পি দিয়ে চলে গেল

কিছুক্ষন পর নিলীমার ডাক শোনা গেল

নিলীমাঃ এই ভাত খেতে আস

আমিঃ আসতাছি

খাওয়াদাওয়া শেষ করে আমি ও নিলীমা ঘুমাতে গেলাম যতারিতী নিলীমা আমার বুকে শুয়ে পরল আমি নিলীমার মাথায় হাত বুলাতে লাগলাম একটুপর দেখি ও ঘুমিয়ে পরেছে কী নিস্পাপ লাগছে আমার বউটাকে একদম বাচ্চাদের মত ঘুমাচ্ছে আমাকে জরিয়ে ওর দিকে মুগ্ঘ হয়ে তাকিয় থাকতে থাকতে আমি অতীতে হারিয়ে গেলাম। 

আমার আর নিলীমার বিয়েটা হয়েছে আর সাত বছর আগে।

তখন আমি পড়ি ক্লাশ 8 এ আর নিলীমা পড়ে 5 এনিলীমা আমার থেকে ৩বছরের ছোট।

আমার যখন ৩বছর তখন নিলীমার জন্ম হয়। 

আম্মুর কাছে শুনেছি নিলীমা হওয়ার পর আমি নাকি নিলীমার কাছেই থাকতাম আর আমি যেসময় নিলীমার কাছে থাকতাম তখন নিলীমা একটুও কান্না করত না।

এরপর আমরা ধিরে ধিরে বড় হতে থাকি।

 নিলীমার যখন ৪বছর তখন থেকে উই আমার সাথে ঘুমাত। সারাদিন আমরা একসাথেই থাকতাম খেলতাম আমি ছোটবেলা কখনও ওকে মারি নাই।। তাছারা আমরা একজনকে ছারা আন্যজন থাকতে পারতাম না। 

নিলীমা ওর নানুবাড়ী বা অন্য কোথাও বেড়াতে গেলে দুই একদিনের বেশি থাকতে পারত না আমার জন্য কান্না করত। 

আমি যখন স্কুলে ভর্তি হই তখন নিলীমা অনেক কান্না করে কারন আমি স্কুলে গেলে ও একা হয়ে পরে তাই। 

আস্তে আস্তে ঠিক মানিয়ে নেয় । আমি যখন ক্লাশ ৩এ পড়ি তখন নিলীমা ক্লাশ ১ এ ভর্তি হয়। 

তখন আমরা দুজন বিকেলে ছারা একসাথে খেলাধুলা করতে পারি না। কারন নিলীমা যখন স্কুলে যায় আমি তখন বাসায় থাকি আবার আমি যখন স্কুলে যাই তখন নিলীমা বাসায় থাকে

আর রাতে প্রতিদিন নিলীমা আমাকে জরিয়ে ধরে ঘুমায়। 

আমি স্কুল থেকে আসার সময় ওর জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসতাম আর পাগলীটা তখন খুব খুশি হত। 

আমার আব্বু আম্মু ওনিলীমার আব্বুু আম্মু এসব কান্ড দেখে হাসত।

এভাবেই চলছিল দিন।

নিলীমা কোথাও গেলে দিনে যেমন তেমন রাত্রে আমাকে ছারা থাকতে পারত না। 

থাকলেও আনেক কান্না করত এজন্য ছোট আম্মু ওকে নিয়ে বেশি বেড়াতে যেত না। 

নিলীমার আম্মু আব্বুু ওর থেকে আমাকে আদর করত বেশি আবার আমার আম্মু আব্বু আমার থেকে পাগলীটাকে আদর করত বেশি।


আমি যখন ৮এ পড়ি এবং নিলীমা যখন ৫ এ পরে তখন আম্মু আমাদের দুইজনকে দুই রুমে থাকতে বলল।

 আমরা দুজনের কেউই রাজি না। 

আম্মু আমাকে বোঝাল যে তোমরা এখন বড় হয়েছ একটা ছেলে ও একটা মেয়ে একসাথে থাকে না। 

তখন নিলীমা বলল তুমি আর বড় আব্বু তো একসাথেই ঘুমাও তাহলে আমরা থাকলে সমস্যা কী?

আম্মু ও ছোট আম্মু নিলীমাকে কিছু না বলে আমাকে বোঝাতে শুরু করে পরে আমরা দুজন দুই বিছানায় ঘুমাতে যাই।

 নিলীমাকে ছারা আমার ঘুম আসছিল না এপাশ ওপাস করছিলাম কারন পাগলীটা রোজ আমাকে জরিয়ে দরে ঘুমাত আর আমিও। হঠাৎদেখি রুমের লাইট জ্বলে উঠেছে তাকিয়ে দেখি নিলীমা। হঠাৎকরে নিলীমা বিছানায় উঠে আমাকে জরিয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিয়েছে। 

আমিও ওকে জরিয়ে ধরেছি।

নিলীমাঃ তুমি যান না তোমাকে ছারা আমার ঘুম আসে না। তোমাকে ছারা আমি থাকতে পারবনা। 

আমিঃ আরে পাগলী কান্না করে না তোকে ছারাও আমি থাকতে পারব না।

এই কথা বলে আমরা ঘুমিয়ে পরলাম।

সকালে আম্মুরা এসে দেখে আমরা দুজন একসাথে ঘুমিয়ে রয়েছি। তখন তারা সিদ্ধান্ত নিল যে আমাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হবে। তারপরের দিনই আমাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হল। আমরা আগের মত চলতে লাগলাম।

নিলীমা যখন ৮ এ পরে তখন একদিন নিলীমা আমাকে বলে

নিলীমাঃ যান আমাদের স্কুলের এক ছেলে আমাকে বলে সে নাকি আমাকে ভালবাসে।

আমিঃ তুই কী বলেছিস?

নিলীমাঃ আমি কিছু বলিনি।

আমিঃ কেন?

নিলীমাঃ ও না পচা একটুও ভাল না।

আমিঃ আচ্ছা কাল তুই আমাকে ঐ ছেলেটাকে চিনিয়ে দিস।

নিলীমাঃ আচ্ছা।

পরেরদিন আমি ঐ ছেলেটাকে আচছা মত শাশিয়ে দিয়েছি এরপর ছেলেটা আর ডিস্টাব করে নি।

আমি যখন ইন্টার পরীক্ষা দেই তখন নিলীমা ক্লাস ৯এ পরে। 

ইন্টার পরীক্ষার পর আমি ভার্সিতে ভর্তির জন্য পস্তুতি নেই। 

আমার রেজাল্ট ভাল হওয়ায় ঢাকায় ভাল একটা পাব্লিক ভার্সিটিতে চান্স পাই। কিন্তু এতে বিপত্তি ঘটল আরেকটা। 

নিলীমা আমাকে কিছুতেই ঢাকা যেতে দিবে না

ওকে আনেক বোঝালাম কিন্তু কিছুতেই রাজি হয় না। 


নিলীমা বলে

নিলীমাঃ তোমাকে ছারা আমি থাকতে পারব না। আমি কাকে জরিয়ে ধরে ঘুমাব হুম।

এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যে যেহেতু নিলীমা এইবার এস এস সি দিবে সো আমি যেই কলেজে পরব নিলীমাকে ও সেই কলেজে ভর্তি করানো হবে এবং একবছর পর নিলীমা আমার সাথেই থাকবে। অনেক কষ্টে নিলীমাকে রাজি করানো হল।।


পরেরদিন আমি ঢাকা চলে যাব। 

পরদিন সকালে যখন আমি ঢাকা চলে যাব তখন নিলীমা সবার সামনে আমাকে জরিয়ে ধরে অনেক কান্না করেছে তখন আমার কলিজা ছিরে যাচ্ছিল আমার চোখ দিয়েও দু ফোটা অশ্রু গরিয়ে পরেছিল। 

অবশেষে আমি ঢাকায় আমাদের বাসায় এসে পরি। এসে সাথে সাথে বাসায় কল করি এবং সবার সাথে কথা বলি ফোনেও পাগলীটা অনেক কান্না করে।

 এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে যায় হঠাত

একদিন রাতে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে এবং আমি কল ধরে

আমিঃ হেল আস্ সালামুআলাইকুম

ওপাশ থেকে একটা মেয়ে সালামের উওর দিয়ে বলে

অপরিচিতাঃ কেমন আছেন?

আমিঃ ভাল বাট আপনি কে?

 সাথে সাথে হাসির আওয়াজ পাওয়া গেল এবং হাসির আওয়াজটা আমার কাছে পরিচিত মনে হল বাট ঠিক চিনতে পারলাম না। এরপর টুকিটাকি কথা বলে ফোন রেখে দিলাম।


চলবে,,,,,,,,,,,



                ( ভুল এুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন )

Comments

দুষ্টু চাচাতো বোন যখন মিষ্টি আদরের বউ-১