দুষ্টু চাচাতো বোন যখন মিষ্টি আদরের বউ-৩

 দুষ্টু চাচাতো বোন যখন মিষ্টি আদরের বউ

লেখক:-Surjo


পর্বঃ৩


আমি পাগলীটাকে পেছন থেকে জরিয়ে ধরলাম। নিলীমা হালকা কেপে উঠল আর বল।


নিলীমাঃএই তুমি এখানে কি করছ হুম

আমিঃ আমার বউটাকে সাহায্য করছি

নিলীমাঃ সাহায্য করছ না

আমিঃ হুম

নিলীমাঃ কিভাবে?

আমিঃ এইযে আমি তোমাকে ধরে রাখছি তুমি যাতে পরে না যাও

নিলীমাঃ তাই না

আমিঃ হুম। আজকে কলেজ যাবা না।

নিলীমাঃ জী না মসাই আমরা আজকে ঘুরতে যাব বুঝেছ

আমিঃ হুম

নিলীমা যতক্ষন পর্যন্ত রান্না করেছে ততখন আমি ওকে পেছন থেকে জরিয়ে ধরে ছিলাম

এভাবে আমাদের দুষ্ট মিষ্টি ভালবাসার মাধ্যমে আমাদের দিন যাচ্ছিল একদিন আমি আর নিলীমা একসাথে কলেজ গেট দিয়ে ঢুকছিলাম তখন আমাদের কলেজের এক মেম আমাদের দুজনকে একসাথে দেখে ফেলে। ঐ মেডামটা আমাকে অনেক ভাল জানে

তো ছুটির পর মেডাম আমাকে ও নিলীমাকে ডেকে পাঠাল

মেডামঃ জয় আমি বেশ কিছুদিন ধরে লক্ষ করছি যে তুমি নিলীমার সাথে একটু বেশি মেলামেসা করছ

আমিঃ আসলে মেডাম

মেডামঃ থাক বুঝতে পেরেছি, আসলে এই বয়সে প্রেম ভালবাসা হতেই পারে কিন্তু এতে বেশি মনযোগী হলে লেখাপরা খারাপ হবে বুঝেছ।

আমিঃ আসলে মেডাম আমরা bf,gf না। নিলীমা হলো আমার চাচাত বোন/ স্ত্রী বুঝছেন মেম

মেডামঃ কি বল এইসব

আমিঃ আমি ঠিকই বলছি মেডাম বিশ্বাস না হলে ওকে জিঞ্জাসা করেন

নিলীমাঃ জী ম্যাম আমরা দুজন স্বামী স্ত্রী।

মেডামঃ ওহ সরি আমি বুঝতে পারিনী

কিন্তু তোমরা এত ছোটকালে কেন বিয়ে করেছ

তারপর মেডামকে সব ঘটনা খুলে বললাম। মেডামতো হাসতে হাসতে শেষ। তারপর মেডাম আমাদের বেস্ট আফ লাক বলে বিদায় হলো। আমি না ঘুমিয়ে এসব ভাবছিলাম তখনই নিলীমা আমাকে বলল

নিলীমাঃ এই তুমি এখনও ঘুমাও নি তখন থেকে দেখছি একা একা হাসছ

আমি নিলীমার কথায় অতীত থেকে বাস্তবে ফিরলাম।

আমিঃ না ঘুম আসছিল না।

নিলীমাঃ তুমি কী ভাবছিলে হুম

আমিঃ কই কিছু না তো

নিলীমাঃ একদম মিথ্যা বলবা না আমি জানি তুমি কিছু ভাবছিলে

কি বলব পাগলীটাকে আমাকে এত ভালবাসে যে আমার মনের কতা পর্যন্ত

বুঝে যায়

আমি বললাম আমাদের আগের কাহীনি ভাবছিলাম।

নিলীমা আমার কথা শুনে মুচকি হাসছে তারপর নিলীমা আমাকে বলল

নিলীমাঃ এই আমার না ঘুম আসছে না।

আমিঃ তো আমি কি করতে পারি মেডাম।

নিলীমাঃ চলনা ছাদে থেকে ঘুরে আসি

আমিঃ কি এত রাতে

নিলীমাঃ হুম চল না

কি আর করব পাগলীটার কথা ফেলতে পারি না

আমিঃ চল

নিলীমাঃ আমাকে কোলে করে নিয়ে যেতে হবে

আমি নিলীমাকে আর কথা বলতে না দিয়ে একেবারে কোলে করে ছাদের দিকেআমি নিলীমাকে আর কোন কথা বলতে না দিয়ে ওকে

কোলে করে সোজা ছাদের দিকে হাটা দিলাম

ছাদে গিয়ে আমরা দুজন এক কর্নারে বসলাম। নিলীমা সোজা

আমার কোলে বসে আমাকে জরিয়ে ধরল

আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম আর পাগলীটা আমার বুকে

নাক ঘসতে লাগল। একটু পর নিলীমা আমাকে বলল দেখ

আকাশে কত সুন্দর চাদ উঠেছে।

আমিঃ

নিলীমাঃ এই এভাবে তাকিয়ে আছ কেন হুম তোমাকে আমি কি

বললাম তুমি শোন নি

আমিঃ আমি আমার পাগলীটাকে দেখছি। আমার না তোমাকে আদর

করতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে।

নিলীমাঃ এখন আদর দেখানো হচ্ছে না। সন্ধ্যায় তো আমাকে

ঠিকই বকলে

আমিঃ আরে ঐ সময় তো আমি তোমার স্যার ছিলাম

নিলীমাঃ তাহলে এখন কী হুম।

আমিঃ কেন তুমি জান না।

নিলীমাঃ না।

আমিঃ আচ্ছা চিনাচ্ছি আমি কে

বলেই নিলীমাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে ওর ঠোট আর

আমার ঠোট এক করে দিলাম।

পাচ মিনিট পর পাগলীটাকে ছারলাম। দুজনই হাপাচ্ছি।

আমিঃ এবার চিনেছ আমি কে।

নিলীমাঃ যাহ দুষ্টু।

আর কিছুক্ষন ছাদে থেকে আমরা দুজন নিচে নেমে আসলাম।

এবারও পাগলীটাকে কোলে করে নিয়ে আসতে হয়েছে।

আমি জানি পাগলীটা আমাকে আনেক বেশি ভালবাসে তা না হলে

পরিবার ছেরে আমার সাথে থাকত না আর বাসার সব কাজ করত না।

এভাবে ভালবাসার মধ্য দিয়েই আমাদের দিন কাটছিল তো একদিন

আমি আমার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম ঠিক সেই সময়

আমাদের এক বন্ধু এসে বলল

সিজানঃ দোস্ত আমিতো ক্রাশ খাইছি।

আমিঃ কস কি

সিজানঃ হু দোস্ত সত্যি ক্রাশ খাইছি।

সাকিবঃ তো মেয়েটা কে।

সিজানঃ মামা ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পরে

আমিঃ তাই নাকি তাহলে তো মেয়েটাকে দেখতেই হয়।

সিজানঃ মামা কাল দেখাব নে

পরদিন আমি আর নিলীমা একসাথে কলেজে আসছি। আমি তারাতারি

বন্ধুদের আড্ডায় গেলাম

আমিঃ কিরে হারামি কই তোর ক্রাশ গার্ল।

সিজানঃ মামা তোর সাথে যে মেয়েটি গেট দিয়ে ঢুকল না সেই

মেয়েটি।

কি বলে উই নিলীমা ছারাতো আমার সাথে কেউ ঢোকে নাই

আমি যখনই এই কথা ভাবছিলাম তখনই নিলীমা আমার কাছে এসে

সবার সামনে বলল

নিলীমাঃ এই আমার না আজ ভাল লাগছে না চল কোথাও ঘুরে আসি।

সবাই আমার আর নিলীমার দিকে তাকিয়ে আছে।

নিলীমাঃ এই আপনারা সবাই আমাদের দিকে এইভাবে তাকিয়ে

আছেন কেন?

সবাই একসাথেঃ ও আপনার কী হয়?

নিলীমাঃ কেন আপনারা জানেন না আমি ওর কি হই।

সিজানঃ না তো

আমিঃ আসলে ওদেরতো আমি কিছু বলি নি।

সাকিবঃ কি বলস নি

আমিঃ আসলে আমরা দুজন স্বামী স্ত্রী।

সবাইঃ কীহহহহ! তোরা কবে বিয়ে করেছিস।

আমিঃ আসলে...

সাকিবঃ তুই না বলছিলি তোর কোন গালফ্রেন্ড নেই

আমিঃ হুম বলেছিলাম আমার তো কোন গালফ্রেন্ড নেই ই।

সিজানঃ তাই না। তাহলে ও কে?

আমিঃ ও তো আমার বউ।

অমিঃ তাহলে কি হল বিয়ের আগে তো তোর গালফ্রেন্ড ছিল

তাই না

আমিঃ আমাদের যখন বিয়ে হয়েছে তখন gf/bf কি আমরা বুঝতাম ই

না।

সিজানঃ মানে?

তারপর আমি ওদের সব ঘটনা খুলে বললাম সবাই তো হাসতে

হাসতো যায় যায় অবস্থা। একটু পর নিলীমা আমাকে বলল

নিলীমাঃ চল

আমিঃ হুম চল।

তারপর সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম আর দেখলাম

সিজানের মন খারাপ কারন বেচারা প্রেমের আগেই ছেকা

খেয়ে গেল।

আমি আর নিলীমা পাশাপাশি রিক্সায় বসে আছি ওর অবাদ্ধ চুলগুলো

আমার মুখে এসে পরছে ওর চুলের মিষ্ট ঘ্রানে আমার ভাললাগা

কাজ করছে। একটুপর নিলীমা বলল

নিলীমাঃ এই কিছু বলছ না যে।

আমিঃ কি বলব?

নিলীমাঃ কি বলবে সেটাও কি আমি সিখিয়ে দিব হুম।

আমিঃহুম।

বলেই নিলীমার হাতটা আমার হাতে নিয়ে নিলাম। নিলীমার দিকে

তাকিয়ে দেখি ও মুচকি মুচকি হাসছে। হঠাত ও আমার কাধে মাথা রাখল

আমিকিছু বললাম না কারন বললেও কোন কাজ হবে না। একটুপর

বাসায় চলে আসলাম। আমরা দুজন ফ্রেশ হয়ে পরতে বসলাম। পরা

শেষে দুজনে খেতে গেলাম। একটুপর নিলীমা বলল

নিলীমাঃ এই আমি খাব না।

আমিঃ কেন?

নিলীমাঃ তুমি খাইয়ে দিলে খাব।

আমিঃ আমার কাছে বললে কি আমি খাইয়ে দিতাম না।

নিলীমাঃ হুম দিতে।

আমিঃ তাহলে এমন করলে কেন?

নিলীমাঃ আমার ইচ্ছা।

আমি আর কিছু বললাম না ওকে খাইয়ে দিলাম। খাওয়া দাওয়া শেষে

আমরা দুজন টিভি দেখতে গেলাম নিলীমা আমার কোলে বসে

পরল। এভাবেই আমাদের দিন কাটছিল। দেখতে দেখতে

নিলীমার hsc xm শুরু হয়ে গেল। পাগলীটা ভাল পরিক্ষা দিয়েছে

কিন্তু আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে কারন ও প্রতিদিন রাতে

আমার বুকে মাথা রেখে পরাশুনা করেছে। দেখতে দেখতে

নিলীমার পরিক্ষা শেষ হয়ে গেল আর আমার অনার্স থার্ড ইয়ার।

নিলীমা বায়না ধরল বাসায় যাবে। তো পরদিন আমরা বাসায় গেলাম।

আমাদের দেখে আম্মু বলল

আম্মুঃ বাহ আমার মেয়েটা দেখি অনেক সুন্দর হয়ে গেছে।

একথা শুনে নিলীমা একটু লজ্জা পেল। তারপর ছোট আম্মু বলল

ছোটআম্মুঃ তোরা ফ্রেশ হয়ে খেতে আয়।

আমি ও নিলীমা ফ্রেশ হয়ে খেতে আসলাম

নিলীমা আমাকে বলল

নিলীমাঃ আমাকে খাইয়ে দিতে হবে।

আম্মুদের দিকে তাকিয়ে দেখি তারা হাসছে। কি আর করার

পাগলীটাকে খাইয়ে দিলাম। তারপর আমরাতারপর আমারা আমাদের রুমে চলে আসলাম। নিলীমা আমাকে

বলল

নিলীমাঃ আমার না খুব ঘুম পাচ্ছে।

আমিঃ তো আমি কি করব। ঘুমাও।

নিলীমাঃ তুমি জান না তোমার বুকে না ঘুমালে আমার ঘুম আসে না।

আমিঃ তাই তো ম্যাডাম আমাকে কি করতে হবে।

নিলীমাঃ তুমি এখন শুয়ে পরবা তারপর আমি তোমার বুকে শুব।

আমিঃ আচ্ছা।

তারপর আমি শুয়ে পরলাম নিলীমা আমার বুকে শুয়ে পরল।

আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি আর পাগলীটা আমাকে শক্ত করে

জরিয়ে ধরে রেখেছে

একটুপর চেয়ে দেখি পাগলীটা ঘুমিয়ে পরেছে। তারপর

আমিও ঘুমিয়ে পরলাম। বিকেলে ঘুমথেকে উঠে আমরা দুজন

ঘুরতে বের হলাম। কয়েক জায়গায় ঘুরে বাসায় চলে আসলাম।

রাতে খাবার খেয়ে আমরা দুজন ছাদে গেলাম। নিলীমা আমার

কোলে বসে পরল। একটু পর নিলীমা বলল

নিলীমাঃ এই শোন না।

আমিঃ হুম বল।

নিলীমাঃ আমার না বলতে লজ্জা লাগছে।

আমিঃ লজ্জার কিছু নেই বলে ফেল।

নিলীমাঃ আমার না একটি বাবু লাগবে।

বলেই আমার বুকে মুখ লুকাল।

আমিঃ এখন না আর কিছুদিন পরে নেই।

নিলীমাঃ কেন?

আমিঃ আমার এখন ও আর এক ইয়ার বাকি আছে। আর তাছারা এখন বাবু

নিলেতো তোমাকে রেষ্টে থাকতে হবে তাই তোমাকে

এখানেই থাকতে হবে আমার সাথে ঢাকা যেতে পারবে না।

তুমিতো আবার আমাকে ছারা থাকতে পারবে না তাই না।

নিলীমাঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আমার বাবু লাগবে না।

আমিঃ তবুও তুমি যদি বল

নিলীমাঃ তোমাক ছারা আমার বাচ্চা লাগবে না। তোমাকে ছারা আমি

একদিনও থাকতে পারব না।

এ কথা বলেই পাগলীটা কান্না শুরু করে দিল। তারপর পাগলীটার

কান্না থামিয়ে নিচে চলে এলাম। তার কিছুদিনপর আমরা ঢাকায় চলে

এলাম। এখন পাগলীটা অনেক দুষ্টু হয়েছে। মাঝে মাঝে আমার

সাথে অভিমান করে। ওর অভিমান ভাঙাতে আমার খুব ভাল লাগে।

একদিন আমি আমার একটা গুরুত্বপূর্ন বই খুজছিলাম। অনেক খোজার

পর না পেয়ে নিলীমে আমি অনেক বকলাম

আমার বকা শুনে নিলীমা অনেক ভয় পেয়ে গেছে এবং কান্না

শুরু করে দিয়েছে। একটুপর আমার মনে হলো আমিতো ঐ

বইটা সাকিবকে দিয়েছি।

যখন এইকথা ভাবছিলাম তখন সামনে তাকিয়ে দেখি নিলীমা ব্যাগ

হাতে দারিয়ে আছে তাই আমি বললাম

আমিঃ কোথায় যাচ্ছ?

নিলীমাঃ আমি বাসায় চলে যাব তোমার সাথে আর থাকব না। (কান্না

করতে করতে)

আমিঃ তাই।

নিলীমাঃ হুম। আমি চলে যাব।

আমিঃ আমাকে ছারা থাকতে পারবে।

নিলীমাঃ

আমিঃ কি হল কথা বল।

নিলীমা আর কিছু না বলে দৌরে এসে আমাকে জরিয়ে ধরে

কান্না শুরু করু দিল। 

আমিও পাগলীটাকে জরিয়ে ধরলাম।


চলবেে,,,,,,,,,,




                  ( ভুল এুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ) 


# সবাইকে নামাজ আদায় করার অনুরোধ রইল।

Comments

দুষ্টু চাচাতো বোন যখন মিষ্টি আদরের বউ-১