দুষ্টু চাচাতো বোন যখন মিষ্টি আদরের বউ - ২
দুষ্টু চাচাতো বোন যখন মিষ্টি আদরের বউ
লেখক:-Surjo
★★পর্ব_২
***
আমার সন্দেহ হল যতবার আমি তার পরিচয় জানতে চেয়েছি ততবারই সে এরিয়ে গেছে এবং কথা ঘুরানোর চেষ্টা করেছে।
আর তার ভয়েজটা আমার খুব পরিচিত মনে হয়েছে।
আমি এই বিষয় নিয়ে বেশি চিন্তা না করে ঘুমিয়ে পরলাম।।
পরদিন সকালে বাসায় ফোন দিয়ে সবার সাথে কথা বলার পর নিলীমার সাথে কথা বললাম নিলীমার সাথে কথা বলার সময় ওর ভয়েজ কিরকম খুশি খুশি লাগল। কথা বলা শেষ করে আমি আমার কাজে মন দিলাম। সেদিন রাতে আবার সেই অপরিচিতার নাম্বার থেকে কল আসল
আমিঃ হেল
অপরিচিতাঃ হেল কেমন আছেন?
ওপাশের গলার ভয়েজ আমাকে ভাবনায় ফেলে দিল অনেক চেনা চেনা লাগল।
আমিঃ ভাল আছি তুই কেমন আছিস?
অপর পাসেঃ এই তুমি আমাকে চিনে ফেলেছ।
আমিঃ যাক বুদ্ধি তাহলে কাজে দিয়েছে(মনে মনে) আমার বউটাকে আমি চিনবনা তো কে চিনবে হুম।
তুই আমাকে পরিচয় গোপন করে ফোন দিলি কেন?
নিলীমাঃ আমি তোমাকে পরীক্ষা করে দেখলাম তুমি আমাকে চিনতে পার নাকি।
আমিঃ তা আমি পাশ নাকি ফেল হুম।
নিলীমাঃ তুমি পাশ।
এভাবে কিছুক্ষন কথা বলে ফোন রেখে দিলাম। দিনকাল ভালই চলছিল
দেখতে দেখতে নিলীমার এস এস সি পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল আর আমার অনার্স 1st ইয়ার। পরীক্ষা শেষে আমি বাসায় যাই। বাসায় ঢোকার সাথে সাথে কে যেন আমাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরল। তাকিয়ে দেখি নিলীমা। আমিও ওকে জরিয়ে ধরলাম। সামনে তাকিয়ে দেখি আম্মু ও ছোট আম্মু আমাদের কান্ড দেখে হাসছে। তারপর নিলীমাকে ছারিয়ে রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে আসলাম।
আম্মুঃ কী জামাইবাবু আামার মেয়েকে পেয়েতো আমাকে ভুলেই গেছস।
আমিঃ কি যে বল না আম্মু তোমাদের কি আমি ভুলতে পারি।
ছোট আম্মুঃ হয়েছে হয়েছে আমার ছেলেটাকে এবার খেতে দাও। এই নিলীমা ওর খাবার নিয়ে আয়।
রাতে আব্বু ও ছোট আব্বুর সাথে কথা হলো। এভাবে সবার সাথে খুব আনন্দে
বন্ধের দিনগুলো কেটে গেল। নিলীমার রেজাল্ট বের হলো ও a+ পেয়েছে। তারপর ওর এডমিসনের জন্য ওকে ঢাকায় নিয়ে আসি আসার সময় উই এবং আম্মুরা অনেক কান্না করেছে। ঢাকা আসার পর আমার কলেজে ওকে ভর্তি করালাম । পাগলীটা প্রতিদিন আমার সাথেই কলেজে যেত আবার আমার সাথেই আসত।
আর বাসায় বুয়া থাকা সত্বেও ও নিজে রান্না করত। আমি অবাক হই ওর রান্না দেখে ওর রান্নার হাত অনেক ভাল।
আর তাছারা এত অল্প বয়সে এত সুন্দর রান্না সবাই করতে পারে না।
প্রতিদিন রাতে নিলীমা আমার কাছেই পড়তে বসত আমিই ওকে পরাতাম।
এভাবে নিলীমার 1st year ও আমার সেকেন্ড ইয়ার শেষ হলো
এখন আমি অনার্স 3rd year এ ও নিলীমা inter 2nd yearএ। নিলীমা আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়ে গেছে। যেকেউ নিলীমার প্রেমে পরতে বাধ্য হবে। শুক্রবার সকালে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম হঠাত নিলীমা আমাকে ডাকতে শুরু করল
নিলীমাঃ এই উঠ আর কত ঘুমাবে হুম
আমিঃ আর একটু ঘুমাই না প্লিজ।
নিলীমাঃ না আর ঘুমানো চলবে না। উঠ তারাতারি।
আমি নিলীমাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে এক টানে ওকে আমার বুকে নিয়ে আসলাম।
নিলীমা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে কারন আমরা একসাথে থাকা সত্যেও আমাদের ভেতর তেমন কিছুই হয় নি। নিলীমা বলল
নিলীমাঃ এই এটা কি হল হুম।
আমিঃ আজ আমার বউটাকে না খুব আদর করতে ইচ্ছে করছে।
নিলীমাঃ জী না কিছু হবে না যতদিন না আমি এইচ এস সি পাস করছি।
আমিঃ কি বলিস একটু আদর করি না
নিলীমাঃ না হবে না।
আমার তখন মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেল। এভাবেই দিন চলছিল আমি আর কয়েকবার নিলীমাকে আদর করতে চেয়েছি বাট পারি নি ও বলে এখন না পরে সবকিছু হবে। আমিও আর জোর করিনি। একদিন আমি আমার এক বান্ধবির সাথে একটি টপিক নিয়ে হাসাহাসি করছিলাম তা নিলীমা দেখে ফেলে। কলেজ ছুটির পর বাসায় যাওয়ার সময় নিলীমা আমার সাথে একটা কথাও বলে নি মুখ ভার করে ছিল।বাসায় ঢোকার সাথে সাথে নিলীমা আমাকে বলল তুমি ঐ মেয়েটার সাথে কি করছিলে হুম।
আমিঃ কোন মেয়েটা
নিলীমাঃ কলেজে যার সাথে হাসাহাসি
করছিলে
আমিঃ আরে ও তো মেঘলা আমার ফ্রেন্ড।
নিলীমাঃ ফ্রেন্ড নাকি অন্য কিছু
আমিঃ দেখ নিলীমা তুই কিন্তু আমাকে শুধু শুধু সন্দেহ করছিস
নিলীমাঃ সন্দেহ করব না তো কি করব হুম এত হাসাহাসির কি দরকার আর আমি তোমাকে আদর করতে নিশেধ করেছি বলে তুমি অন্য মেয়ের সাথে হাসাহাসি করবে আমার বুঝি কষ্ট হয় না। এই কথা বলেই পাগলীটা কান্না শুরু করে দিল। এবার আমি পাগলীটাকে আমার বুকে জরিয়ে নিলাম আর বললাম
আমিঃ আর কথা বলব না হয়েছে।
নিলীমাঃ কান্না জরিত কন্ঠে হুম।
আমি এবার ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম আর পাগলীটা আমাকে শক্ত করে জরিয়ে ধরেছে যেন ছেরে দিলেই পালিয়ে যাব।
একটুপর নিলীমা আমাকে যে কথাটা বলল তা শোনার জন্য আমি পস্তুত ছিলাম না।
নিলীমাঃ আমরা আজকে রাতেই বাসর করব।
আমিঃ কী বলিস মাথা ঠিক আছে।
নিলীমাঃ হুম মাথা ঠিকই আছে তুমি যাও ফুল নিয়ে আস।
আমি আর কি বলব ফ্রেশ হয়ে ফুল কিনতে গেলাম।
সন্ধ্যায় ফুল কিনে নিয়ে আসলাম। আজ আমার খুব খুশি লাগছে নিজের বউটাকে আদর করতে পারব ভেবেআমরা দুজন মিলে বাসর সাজালাম। তারপর নিলীমা আমাকে একটি নীল পান্জাবি এনে দিয়ে বলল
নিলীমাঃ ঐ রুমে গিয়ে এইটা পরবে আর আমি মেসেজ পাঠানোর আগ পর্যন্ত তুমি এই রুমে আসবে না।
আমি পাশের রুমেগিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলাম এবং অনেক অপেক্ষার পর নিলীমার মেসেজ আসল। আমি ঐ রুমে যাওয়ার জন্য পা বারাচ্ছি আর আমার কেমন যেন ভয় ভয় লাগছে। অবশেষে মনে সাহস যুগিয়ে দরজার কাছে গেলাম দরজা ধাক্কা দেওয়া মাত্রই দরজা খুলে গেল।
তার মানে দরজা খোলাই ছিল। আমি ভিতরে ঢুকতেই দেখতে পেলাম আমার বউটা ইয়া বড় একটা ঘুমটা দিয়ে বসে আছে। আমার অস্তিত্ব টের পেয়ে পাগলীটা বিছানা থেকে নেমে আমাকে সালাম করল। আমি দুহাত ধরে পাগলীটাকে উঠালাম ও ওর ঘুমটা সরালাম। আমি ওর প্রেমে পরে গেলাম। ঘুমটা সরানোর সাথে সাথে পাগলীটা আমাকে জরিয়ে ধরল আর আমিও জরিয়ে ধরলাম। এরপর আমরা দুজন অজু করে দুরাকাত নফল নামাজ আদায় করলাম। নামাজ শেষে আমরা খাটে গিয়ে বসলাম তারপর আমি বললাম
আমিঃ তোকে এবার আদর করি
নিলীমাঃ না। আর তুমি আমাকে তুই বলছ কেন।
আমিঃ তাহলে কি বলব
নিলীমাঃ তুমি বলবে
আমিঃ আচ্ছা। এবার একটু আদর করি।
নিলীমাঃ না
আমিঃ একটু করি না।
নিলীমাঃ না
আমিঃ একটু।
নিলীমাঃ ঐ তোমার বউকে তুমি আদর করবা এতে আবার অনুমতি নেওয়া লাগে( রাগি স্বরে)
আমি আর কিছু না বলে নিলীমাকে জরিয়ে ধরলাম আর চার ঠোট এক করে দিলাম তারপর দুজন দুজনার ভালবাসায় মেতে উঠলাম সকালে পানির ছিটায় আমার ঘুম ভেঙে গেল তাকিয়ে দেখি নিলীমা ওর ভেজা চুলের পানি আমার মুখে ছিটিয়ে মারছেআর মুচকি মুচকি হাসছে এতে ওকে আর সুন্দর লাগছে আমি একদৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছি।
নিলীমার ডাকে আমার ধ্যান ভাঙল।
নিলীমাঃ এই কি দেখ ওমন করে হুম
আমিঃ আমার বউটাকে না খুব সুন্দর লাগছে
আমার কথা শুনে নিলীমা লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল। ওর লজ্জামিশ্রিত মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আবার ওর প্রেমে পরে গেলাম। আর ওকে একটানে আমার বুকে নিয়ে আসলাম।
পাগলীটা আমাকে জরিয়ে ধরে আছে।
কিছুক্ষন পর পাগলীটা আমাকে বলে
নিলীমাঃ এই ছার আনেক বেলা হয়ে গেছে রান্নাঘরে যেতে হবে।
আমিঃ আরেকটু থাক না পাগলী।
নিলীমাঃ তাহলে রান্না করবে কে আর খাবে কি হুম।
তারপর নিলীমা রান্নাঘরে চলে গেল।
একটুপর আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরের দিকে যেয়ে দেখি পাগলীটা রান্না করছে আর একমনে গুনগুন করে গান গাইছে। আমি আর নিজেকে সামলাতে না পেরে পাগলীটাকে পেছন থেকে
জরিয়ে ধরলাম,,
চলবে,,,,,,,,,,
( ভুল এুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন )



Comments
Post a Comment